২০২৬ শিক্ষাবর্ষ শুরু হলেও বছরের প্রথম দিনে মাধ্যমিক স্তরের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী বিনা মূল্যের পাঠ্যবই পাননি। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) পরিকল্পনা ছিল প্রথম দিনেই অন্তত এক থেকে দুটি করে বই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দেওয়া। তবে সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির বই অনেক বিদ্যালয়ে বিতরণ হয়নি, এমনটিও রাজধানীতে দেখা গেছে।
অপরদিকে প্রাথমিক স্তরে কোনো সংকট নেই। প্রাথমিকের শতভাগ বই ইতিমধ্যেই মাঠপর্যায়ে বিতরণ করা হয়েছে। কিছু বিদ্যালয়ে মাধ্যমিকের সঙ্গে প্রাথমিক স্তর থাকলেও প্রাথমিকের বই এখনও দেওয়া হয়নি বলে অভিভাবকরা জানিয়েছেন।
এনসিটিবির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মাধ্যমিকের সব বই ১৫ জানুয়ারির মধ্যে শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে যাবে। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রে বলা হয়েছে, বাস্তবে আরও কিছু দিন দেরি হতে পারে, যা পড়াশোনায় প্রভাব ফেলতে পারে। বইয়ের অনলাইন ভার্সন এনসিটিবির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে চাইলে শিক্ষার্থীরা তা ডাউনলোড করতে পারবে।
এনসিটিবির তথ্য অনুযায়ী, মাধ্যমিক স্তরে মোট ২১ কোটি ৪৩ লাখ ২৪ হাজার ২৭৪টি বই রয়েছে। ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৭২.৮৫ শতাংশ বই সরবরাহ করা হয়েছে। ষষ্ঠ শ্রেণিতে ৮০ শতাংশের বেশি, সপ্তম শ্রেণিতে ৫৮.৩৬ শতাংশ, অষ্টম শ্রেণিতে প্রায় ৪৫ শতাংশ এবং নবম শ্রেণিতে প্রায় ৮৪ শতাংশ বই পৌঁছেছে।
প্রভাতী উচ্চ বিদ্যানিকেতন ও ইস্কাটন গার্ডেন উচ্চবিদ্যালয়ে দেখা গেছে, প্রাথমিক ও ষষ্ঠ শ্রেণির সব বই পৌঁছেছে, নবম শ্রেণির বই এসেছে আংশিক। সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির বই এখনও বিতরণ হয়নি।
মাদ্রাসার ইবতেদায়ি বইয়ে কোনো সমস্যা নেই, তবে দাখিল স্তরের ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির বই এখনো আসে নি।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক স্তরে মোট ৮ কোটি ৫৯ লাখের বেশি বই রয়েছে এবং তা শতভাগ বিতরণ করা হয়েছে। নতুন বছরের প্রথম দিনে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার।
